বাংলাদেশে ই-জিপি প্রশিক্ষণ: কোর্স, কারা প্রয়োজন এবং প্রস্তুতি
লিখেছে e-GP Sohayok editorial team · প্রকাশিত

দরদাতা ও ক্রয়কারী কর্মকর্তাদের জন্য ই-জিপি প্রশিক্ষণ: বিপিপিএ-র প্রশিক্ষণে কী শেখানো হয়, দরদাতা ও ক্রয়কারী সংস্থার কোর্সের পার্থক্য, নিজে নিজে কী শেখা যায়, এবং প্রথম দরপত্রের আগে অনুশীলনের উপায়।
ই-জিপি প্রশিক্ষণ কাদের জন্য
‘ই-জিপি প্রশিক্ষণার্থী’ বলতে সম্পূর্ণ আলাদা দুই ধরনের মানুষ বোঝায়। দরদাতা — ঠিকাদার, সরবরাহকারী ও পরামর্শক — কে প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, অ্যাকাউন্ট ও সার্টিফিকেট সচল রাখা, বিজ্ঞপ্তি খোঁজা, দরপত্র ফরম পূরণ এবং সময়মতো দাখিল শিখতে হয়। ক্রয়কারী সংস্থার কর্মকর্তাদের শিখতে হয় অন্য অংশ: বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা, দরপত্র তৈরি, মূল্যায়ন কমিটির কাজ, অ্যাওয়ার্ড বিজ্ঞপ্তি ও চুক্তি ব্যবস্থাপনা। কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি কোন দিকের, কারণ দুই সিলেবাসে মিল খুবই কম।
সরকারি প্রশিক্ষণ কোথা থেকে আসে
বাংলাদেশে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি-র অধীন সাবেক সিপিটিইউ-র দায়িত্ব নিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বিপিপিএ ও তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হয়; দরদাতাদের জন্য ওরিয়েন্টেশন সাধারণত ছোট এবং প্রায়ই চেম্বার, ব্যবসায়ী সমিতি বা ক্রয়কারী সংস্থার সঙ্গে আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি ও প্রশিক্ষণ উপকরণ জাতীয় পোর্টালে প্রকাশ করা হয়, আর বর্তমান সূচি হেল্প ডেস্ক থেকে জেনে নেওয়া যায়।
দরদাতাদের কোর্সে আসলে কী শেখানো হয়
কাজে লাগে এমন প্রশিক্ষণ মূলত হাতে-কলমে পোর্টালের কাজ, তত্ত্ব নয়: প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট খোলা ও যাচাই, বাধ্যতামূলক কাগজপত্র আপলোড ও নবায়ন, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি সঠিকভাবে পড়া, দরপত্র দলিল ডাউনলোড, কারিগরি ও দর তফসিল পূরণ, অনলাইনে ফি ও দরপত্র জামানত পরিশোধ এবং হাতে সময় রেখে দাখিল। সবচেয়ে দামি অংশ হলো ভুলের উদাহরণ — তফসিলে অমিল, মেয়াদোত্তীর্ণ সার্টিফিকেট, স্বাক্ষরহীন ফরম — কারণ এসব কারণেই সক্ষম প্রতিষ্ঠানও বাদ পড়ে।
শ্রেণিকক্ষ ছাড়া কতটা শেখা যায়
ই-জিপির বড় অংশ নিজে নিজেই শেখা যায়। জাতীয় পোর্টালে ব্যবহারকারী নির্দেশিকা ও সহায়িকা প্রকাশ করা আছে, পাবলিক দরপত্র বিজ্ঞপ্তির তালিকা লগইন ছাড়াই দেখা যায়, এবং বিধিমালা — পিপিআর ২০০৮ ও ২০২৫ — উন্মুক্ত দলিল। একটি বাস্তব দরপত্র দলিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন, তাতে চাওয়া প্রতিটি যোগ্যতার শর্ত লিখে ফেলুন, তারপর নিজের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। এক দিনের স্লাইড দেখার চেয়ে এই একটি কাজ বেশি শেখায়।
শেষ দিনে নয়, আগেই অনুশীলন করুন
সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল হলো প্রথম বাস্তব দরপত্রকেই মহড়া হিসেবে নেওয়া। একটি মহড়া করুন: যে বিজ্ঞপ্তিতে অংশ নেবেন না এমন একটি চলমান দরপত্র নিন, ডাউনলোড করুন, সত্যিকারের মতো কাগজপত্র তৈরি করুন এবং সময় মেপে দেখুন। তখনই ধরা পড়বে ঘাটতিগুলো — নবায়ন না হওয়া ট্রেড লাইসেন্স, না থাকা নিরীক্ষিত হিসাব, জামানতের জন্য ব্যাংকের দুই দিন সময় — যখন সেগুলো ঠিক করার সুযোগ আছে।
প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়ার আগে
- প্রথমে ঠিক করুন আপনি কোন ধারার: দরদাতা নাকি ক্রয়কারী সংস্থা — সিলেবাস আলাদা।
- কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং তা হাতে-কলমে পোর্টালের কাজ নাকি শুধু স্লাইড, জেনে নিন।
- নিজের প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র সঙ্গে নিন, যাতে ডেমো নয়, বাস্তব তথ্য দিয়ে অনুশীলন হয়।
- মালিক ছাড়াও অন্তত আরেকজনকে প্রশিক্ষিত রাখুন — একজন অনুপস্থিত থাকলে অ্যাকাউন্ট আটকে যায়।
- সেদিনই নিজের ভাষায় পোর্টালের ধাপগুলো লিখে রাখুন; এক সপ্তাহেই ক্লিকের ক্রম ভুলে যায়।
- কয়েক মাস পরপর মহড়া দাখিল করুন, বিশেষ করে বিধি বা পোর্টাল বদলালে।
বিপিপিএ হেল্প ডেস্ক ২৪/৭ খোলা — ১৬৫৭৫ বা +৮৮০৯৬৭৭০১৬৫৭৫, এবং helpdesk@eprocure.gov.bd।
সম্পর্কিত গাইড
সরকারি উৎস
ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলে টুলগুলো ব্যবহার করুন
Sign in to use the tender preparation tools
দরপত্রের কাগজ তৈরি, হিসাব যাচাই ও সংরক্ষিত নথি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীদের জন্য। নিবন্ধন সম্পূর্ণ ফ্রি এবং সঙ্গে সঙ্গেই প্রবেশ করা যায়।
দ্বিভাষিক খসড়া ফরম দিয়ে বাস্তব দরপত্রে অনুশীলন
ই-জিপি সহায়ক প্রকাশিত দরপত্রগুলো আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখায় এবং ই-জিপির কাঠামো অনুসরণ করে ছাপার উপযোগী দ্বিভাষিক খসড়া ফরম তৈরি করে। খসড়া শুধু আপনার অনুশীলন ও যাচাইয়ের জন্য — দাখিল করতে হবে eprocure.gov.bd-এ।
ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলুনপ্রশিক্ষণ বা নিবন্ধনে সহায়তা দরকার?
ই-জিপি সহায়কে ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে অ্যাপের ভেতরেই দ্বিভাষিক ধাপে-ধাপে নির্দেশনা, অনুশীলনের খসড়া ও নিবন্ধনের সহায়তা পাবেন। পোর্টালের নিজস্ব সমস্যা — অ্যাকাউন্ট অনুমোদন, সার্টিফিকেট, পেমেন্ট — এর জন্য বিপিপিএ হেল্প ডেস্কই সরকারি মাধ্যম, যা ২৪/৭ খোলা।